অভিমত : সরকারি দলের গুম বনাম বিরোধী দলের হরতাল

By: আল আমিন বিন জামান
Date: 2012-05-06

দেশ বিভাগের পর ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় যত লোক নিহত হয়েছে পৃথিবীর আর কোনো রাষ্ট্রে তা হয়নি। তারপরও দেশটিতে রয়েছে নানা সমস্যা। বিভিন্ন জাতি-ধর্মের মানুষ নিয়ে তাদের অভ্যন্তরে রয়েছে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ। স্বাধীনতাকামী কয়েকটি সংগঠন চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। পাকিস্তানে রয়েছে ধর্মান্ধ-উগ্র-জঙ্গিবাদ, যা দেশটিকে করে তুলেছে অশান্ত রক্তাক্ত। আর শ্রীলঙ্কা তামিলদের নিয়ে বেসামাল। নেপাল আছে রাজতন্ত্র না গণতন্ত্র সেই হিসাব-নিকাশ নিয়ে। বার্মা তো সামরিক জান্তার নিষ্পেষণে উহ্-শব্দটি করতে পারে না। এভাবে পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ দেশেই রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। কিন্তু আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ সবার চেয়ে আলাদা। এটি সত্যিই শান্তির দেশ। এখানে না আছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গোত্রে গোত্রে প্রতিহিংসা, বিচ্ছিন্নতাবাদী কোনো সংগঠন বা প্রাকৃতিক বৈরিতা। এখানে একজন কৃষক ফসলের ক্ষেতে দাঁড়িয়ে বীজ বুনে দিলে ফসল ফলে যায়। বাংলাদেশের মতো এমন উর্বর মাটি পৃথিবীতে খুব কমই আশা করা যায়। বাংলাদেশের মানুষ এতই আন্তরিক যে কোনো প্রতিবেশী মারা গেলে তারা চোখ ভাসিয়ে কেঁদে ওঠে। মৃত বাড়িটির জন্য তিনবেলা খাবার রান্না করে পাঠিয়ে দেয়। এখানে ঈদ এ পূজার আনন্দে সমবেত হয় মুসলিম ও হিন্দু সমানতালে। রোজার ইফতারে দাওয়াত পায় হিন্দু আর পূজার মণ্ডপ ঘিরে যে লোকারণ্য তার অধিকাংশই মুসলমানের ছেলেমেয়ে। এটি সেই দেশ, যেখানে মানুষ ভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয়। এ দেশের মানুষ জানে কীভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়। আমরা যেন সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদপুষ্ট একটি রাষ্ট্র। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের দেশের রাজনীতি দিনের পর দিন উগ্র আর সহিংস হয়ে উঠছে। এমন সুন্দর রাষ্ট্রটিকে আমরা করে ফেলছি কলুষিত সহিংস আর অসহিষ্ণু নোংরা রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ। যদি রাজনৈতিক হানাহানি আর ক্ষমতার মসনদে থাকার মোহমুক্তি ঘটে তবে বাংলাদেশ একটি সোনার দেশে পরিণত হবে। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। তার জন্য প্রয়োজন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহনশীলতা ও প্রকৃত দেশপ্রেম। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে বা ক্ষমতায় যেতে হবে, এমন উদ্দেশ্যে রাজনীতি না করে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক সমৃদ্ধিশালী ও রাজনৈতিক শক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যে রাজনীতি করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি দলকেই এগিয়ে আসতে হবে আগে। যেহেতু জনগণ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে তাদের। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বলা যাবে না—কারও বেডরুমের নিরপত্তার দায়িত্ব সরকারের না কিংবা নিখোঁজ হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে লুকিয়ে রেখেছেন স্বয়ং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
হরতাল জনগণের জানমালের ক্ষতি করে। দেশের অর্থনীতিতে রয়েছে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ হয়ে যাবে অথচ সরকার তার হদিসই বের করতে পারবে না, তা মেনে নেয়া যায় না। আর তার জন্য যদি বিএনপি হরতাল দেয় সেই দায়ভার বিএনপির না স্বয়ং সরকারের কারণ তারা একজন ইলিয়াস আলীর জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার অনেক ক্ষমতা। আপনার রাজ্যে একজন খুনি ফাঁসির আসামিও বেকসুর খালাস পায়, কিন্তু ইলিয়াস আলীরা হারিয়ে যায়। দয়া করে আপনার সভাসদকে বলুন ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করতে, যাতে করে বাংলাদেশের মানুষ একটি অসহনীয় রাজনৈতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি পায়।


zothy0172@yahoo.com

 

You may also like

ভারতীয় সেনাদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রোধ করতে হবে
By: মো হা ম্ম দ জ য় না ল আ বে দী ন
On: 2012-05-01