কালো বিড়ালের আঁচড়ে ধরাশায়ী শ্রী সেনগুপ্ত
By: আ তা উ স সা মা দ
Date: 2012-04-17
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ যাত্রায় ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এক বছর পার হতে না হতে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই, আর ভুক্তভোগীরা তো বটেই, কান্নাকাটি করতে থাকেন যে সরকারি দল আওয়ামী লীগের লোকজনের অত্যাচার ও লুটপাটের দরুন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষত, আওয়ামী লীগের কয়েকজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাস্তার গুণ্ডাদের মতো যখন যাকে খুশি মারধর ও অপমান করতে থাকেন। সাংবাদিক আর সরকারি কর্মকর্তারা বেশ ভালো সংখ্যায় এরকম দুর্বৃত্তপনার শিকার হন। একপর্যায়ে এসে এসব হঠাত্ গজিয়ে ওঠা রাজনৈতিক ব্যক্তির আশ্রিত আওয়ামী ক্যাডারকুল পুরো দেশটাকেই তাদের মৃগয়ার ক্ষেত্র বানিয়ে ফেলে। এদের কাছে ব্যবসা-বাণিজ্য দখল, জমি দখল, নদী দখল, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখল, স্কুল-কলেজের সভা-সমিতিতে ঢুকে মারধর বা ভাংচুর করা, বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ না পেলে বিয়ে বাড়িতে হামলা, খেলাধুলা ও পেশাজীবীদের ক্লাব দখল করা হয়ে দাঁড়ায় মামুলি ব্যাপার। প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ খুন করতেও পিছুপা হয়নি এরা। আর টেন্ডার ছিনতাই করা তো এদের অনেকের সার্বক্ষণিক পেশা হয়ে দাঁড়ায়। এসব লোকের পেছনে প্রধানত সরকারি দলের সদস্যরা আছেন। এসব সদস্যের মধ্যে অনেককেই সংসদের মতো জাতীয় মর্যাদা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এবারই প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে থেকেই অধিকসংখ্যক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগেরই কোনো কোনো ক্ষুব্ধ তথা মন্ত্রীপদ বঞ্চিত নেতা শেখ হাসিনার বর্তমান মন্ত্রিসভাকে ‘কচি-কাঁচার মেলা’ হিসেবে অভিহিত করেন। এমনকি আওয়ামী লীগ সমর্থক সুপরিচিত একজন ভাষ্যকার একবার দুঃখ করে এদের ‘অজ্ঞাতকুলশীল’ বলে আখ্যায়িত করে এদের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যিট কতখানি ঝরঝরে হয়ে পড়বে সে ব্যাপারে তার শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
ওই অবস্থায় বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের প্রথম বছর পূর্তি উপলক্ষে দলের ছোট-বড়-মেঝ নানা মাপের নেতারা বলতে শুরু করলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে হয়তোবা কিছু দুষ্কৃতকারী দলের নাম ভাঙাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের নামে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি, কারণ তারা সত্ভাবে কাজ করছেন। তাছাড়া জোট সরকারের সময়ের মতো কোনো হাওয়া ভবন তৈরি হয়নি’। উল্লেখ্য, গত জোট সরকারের আমলে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দলীয় রাজনৈতিক দফতর ছিল বনানীতে হাওয়া ভবন নামক বাড়িতে। আর ওই অফিসের নিয়ন্ত্রক ছিলেন বেগম জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান, যিনি বর্তমানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জরুরি আইনের অসাংবিধানিক সরকারের সময় কারারুদ্ধ অবস্থায় শারীরিক নির্যাতনের ফলে তিনি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। বর্তমানে তিনি লন্ডনে সেই আঘাতের চিকিত্সা করাচ্ছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতা আজও সরবে অভিযোগ করেন, জোট সরকারের আমলে দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ও ইসলামী জঙ্গিদের সব ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র ছিল হাওয়া ভবন।
তবে এসব গালাগাল করতে করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতা-উপনেতারা সম্ভবত বিশ্বাস করা শুরু করেছেন, তাদের আমলে যে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও লুটপাট চলছে লোকজন সে কথা ভুলে থাকবে যদি তারা অনবরত সাবেক জোট সরকার, বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়া ও তার দুই পুত্রকে প্রতিদিন দিনরাত অকথ্য ভাষায় বকাবকি করতে থাকেন। তাদের এমত আচরণে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরা, কিছু সহানুভূতিশীল ব্যক্তি ও কট্টর সমর্থকরা হয়তো সারাদেশে যে সীমাহীন দুর্নীতি, চরম অনিয়ম, অসহনীয় আর্থিক অনটন ও ভয়ঙ্কর বিশৃঙ্খলা চলছে সে কথা বিস্মৃত হবেন অথবা সেসব অস্বীকার করবেন, কিন্তু জনগণের অধিকাংশ এই ঘুমপাড়ানি ছড়া শুনে তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালা-যন্ত্রণা ভুলে ঘুমিয়ে পড়বেন না। তারা যে কারও বচনামৃত শ্রবণে সন্তুষ্ট হবেন না হাতেনাতে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সদ্য বরখাস্ত হওয়া সহকারী ব্যক্তিগত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুকের গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা পাওয়ার কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তি, তার গাড়িতে ভ্রমণরত রেলের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বয়ং মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধিক্কারের যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে তা থেকে। ঘটনার নাটকীয়তা অবশ্যই দারুণ রকম নজরকাড়া ছিল। সোমবার প্রায় মধ্যরাতে অকস্মাত্ একটি গাড়ি বিজিবি’র (সাবেক বিডিআর) সদর দফতর যেখানে সেই পিলখানায় ঢুকে পড়া, ড্রাইভারের বিজিবি প্রহরীদের আহ্বান জানানো যে ওই গাড়িতে ঘুষের লাখ লাখ টাকা আছে, বিজিবি’র লোকজনের গাড়ি তল্লাশি করে বাস্তবিকই ৭০ লাখ টাকার সন্ধান পাওয়া, ওমর ফারুক ওই টাকা তার শ্যালকের বলে দাবি করা, গাড়ির ড্রাইভারসহ চার আরোহীরই দাবি করা যে, তারা পিলখানার পাশেই রায়েরবাজারে মন্ত্রীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন, মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের তা অস্বীকার করা, বিজিবি’র ওই গাড়ির সব আরোহীকে টাকাসহ ছেড়ে দেয়া ও পুলিশে কোনো মামলা না হওয়া, তারপর দিনের বেলায় ওমর ফারুকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭০ লাখ টাকা জমা পড়া এবং চাকরি বাণিজ্যের ঘুষ থেকে সংগৃহীত টাকার অস্তিত্ব ফাঁস করে দিল যে ড্রাইভার আজম সে লোকচক্ষুর সামনে থেকে বেমালুম অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় দেশে। বাংলাদেশ রেলওয়ের কয়েক হাজার শূন্যপদ পূরণের জন্য নতুন লোক নিয়োগ দিতে যে প্রার্থীদের কাছ থেকে পর্বতপ্রমাণ অংকের টাকা ঘুষ আদায় করা হয়েছে, এই অভিযোগ প্রায় সবাই বিশ্বাস করেছেন। বিজিবি গেটের নাটকে প্রদর্শিত ৭০ লাখ টাকা যে ওই ঘুষের ছিটেফোঁটা মাত্র, সবাই সেই সন্দেহ পোষণ করছেন। এরই মধ্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিষয়টি থেকে নিজের দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা শুরু করলে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ‘যদি-তবে’ ধরনের মন্তব্য করে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করতে তারা বিলম্ব করতে পছন্দ করছে এমন ধারণা সৃষ্টি করলে এবং পুলিশ (সম্ভবত যুত্সই আইনের অভাবে এবং কেউ তাদের কাছে মামলা না করতে আসায়), বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কেলেঙ্কারিটিকে এড়িয়ে যেতে পারলে বাঁচে এমন ভাব দেখালে সরকার ও ক্ষমতাসীনদের সম্পর্কে সমালোচনা সাধারণ্যে কঠোরতর হয়ে ওঠে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী প্রধান ইফতেখারুজ্জামান রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত্ সেনগুপ্তকে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পদত্যাগ করতে আহ্বান জানান। তিনি এও বলেন, ঘটনাটি বাংলাদেশের বর্তমান দুর্নীতি-সমুদ্রে একটি কণা মাত্র। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো শক্ত ভাষায় শ্রী সেনের পদত্যাগ দাবি করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেন, এ সরকারের এক মন্ত্রীর এপিএসের গাড়িতে ব্যক্তিগত ৭০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, অতএব মন্ত্রীদের গাড়িতে এরকম কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাবে। অবস্থাদৃষ্টে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী নেতারা থমকে যান। তারা শ্রী সেনগুপ্তের জন্য মুখ খোলেননি। তারা আসলেই মনে করেন, সুরঞ্জিত কেন্দ্রিক কেলেঙ্কারিটি আওয়ামী লীগের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। এরই মধ্যে শ্রী সেনগুপ্ত ঘোষণা করেন, বিরোধী দলের দাবিতে তিনি পদত্যাগ করবেন না, তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে যে পরামর্শ দেবেন তিনি অম্লান বদনে তাই গ্রহণ করবেন। শেখ হাসিনা তুরস্ক সফর শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনের দ্বিতীয় রাতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে গণভবনে ডেকে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। অতঃপর রেলমন্ত্রী শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পদত্যাগ করেছেন। তিনি যাকে রেলের কালো বিড়াল বলে অভিহিত করে সেটিকে খুঁজে বের করবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, সেই কালো বিড়ালই তাকে আঁচড়ে-খামচে মন্ত্রিত্ব থেকে বিদায় করে দিল।
তবে এ কেলেঙ্কারির ওপর কি এখানেই যবনিকাপাত হবে, না এ পর্যায়ে যবনিকা টানা ন্যায়সঙ্গত হবে? এক সুরঞ্জিত বিদায়ের মাধ্যমেই কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ‘সুবোধ-সুশীল’ সরকারের জন্য দুর্নীতি এক বিশাল সমস্যা হয়ে থাকবে না আর? আমাদের মনে হয় না যে, বর্তমান সরকারের স্তরে স্তরে ও শিরা-উপশিরায় প্রবহমান দুর্নীতির ধারা দূর হয়ে গেল বা এত সহজে তা যাবে। এ সরকারের আমলেও অনেক বড় বড় দুর্নীতি অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধনের ঘটনা ঘটেছে। যেমন শেখ হাসিনার মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম রমজানে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিস্ফোরণ ঘটে তার একটি প্রধান কারণ দুর্নীতি ও মুনাফাখোরি। সরকার-নিয়োজিত কোনো কোনো সরবরাহকারী বা ঠিকাদার এর মধ্যে ছিল, কিন্তু তাদের কোনো শাস্তি হওয়ার কথা প্রকাশিত হয়নি। নিয়োগ-বাণিজ্যে হাত-পাকানো দলীয় ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি বরং এতে আপত্তি জানালে আমলাদের লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। বহুল আলোচিত পাবনা ঘটনা তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। শেয়ারবাজার লুটপাট করা ও তা ধসানোর জন্য দায়ী বলে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পদ্মা সেতুর জন্য পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পাইয়ে দিলে এক কানাডীয় প্রতিষ্ঠান সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীর কাছের কোনো কোনো লোকের সঙ্গে যে ঘুষ চুক্তি করতে যাচ্ছিল তার কিছু প্রমাণ কানাডার পুলিশ পেয়েছে এবং বিশ্বব্যাংককে তা জানিয়েছে। বাংলাাদেশ সরকারের সঙ্গে বিষয়টির মীমাংসা না হওয়ায় বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকা ওই প্রকল্পে তাদের অর্থায়ন বন্ধ রেখেছে। এখন এক নগণ্য গাড়িচালকের উষ্মা বা সাময়িক উত্তেজনার ফলে রেলের কালো বিড়ালের লেজের কিছু লোম দেখা গেল, কিন্তু বিড়ালটা ধরা হয়নি এখনও। এদিকে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল প্রক্রিয়ায় বিদ্যুত্ উত্পাদন যন্ত্র ভাড়া করে আসলে দেশ উপকৃত হয়েছে না ব্যক্তিবিশেষের জন্য সুবিধার ভর্তুকির পাহাড় ধসে মরতে বসেছে, সে প্রশ্ন আর ধামাচাপা দিয়ে রাখা যাচ্ছে না খোদ সরকারি মহলেও। আমজনতার মতো খোদ অর্থমন্ত্রীও প্রশ্ন তুলেছেন, বিদ্যুত্ উত্পাদনের যে হিসাব দেয়া হচ্ছে তা সঠিক তো? এতসব কেলেঙ্কারির সুরাহা না করলে বর্তমান সরকার দুর্নীতির অভিযোগ বা কলঙ্ক থেকে রেহাই পাবে না কিছুতেই। বরং একটা চাপা সমালোচনা থেকে যাবে যে, ১/১১’র অসাংবিধানিক সরকারের পরামর্শে শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যে সংস্কারপন্থী হয়ে গিয়েছিলেন তার শোধ নিলেন দলনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্নীতি দমন করার লক্ষ্যে তাকে আরও কিছু মন্ত্রী ছাঁটাই এবং ঘর সাফ করার মতো কার্যকর তদন্ত করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, তাকে বুঝতে হবে যে, তার বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি দ্বারা দেশ খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তার ফলে জনগণকে কষ্টে পড়তে হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এর আগেও বিভিন্ন সরকারের আমলে কোনো কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। যেমন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের শিল্পমন্ত্রী জহিরুদ্দীন খান পদত্যাগ করেন সার সঙ্কটের দায় নিয়ে। শেখ হাসিনার প্রথম সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন আফসার উদ্দিন আহমদ এবং জোট সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন। তবে তারা যেসব সমস্যা অথবা অভিযোগের মুখে মন্ত্রিত্ব ছাড়েন, সেসব সমস্যা বহাল রয়েই গেছে।